April 19, 2026, 3:33 pm

গাইবান্ধা পৌরসভায় অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে কারণ দর্শাও নোটিশ একজন সাময়িক বরখাস্ত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গাইবান্ধা পৌরসভার ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণ দর্শাও নোটিশ ও একজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পৌর মেয়র মো. মতলুবর রহমান অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
কারণ দর্শাও নোটিশ প্রাপ্তরা হলো- নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম সিদ্দিকুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমিতাভ চক্রবর্ত্তী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, ষাঁট লিপিকার মিলন কুমার সরকার, বাজার পরিদর্শক মো. লুৎফর রহমান। তারা সবাই যথাসময়ে কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেন। কিন্তু মধ্যে ষাঁট লিপিকার মিলন কুমার সরকারের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ গত ২৫ এপ্রিল রোববার স্মারক নং গা:পৌ: সংস্থাপন-১/২০২১/৯৩৯ মূলে পৌরসভা কর্মচারি বিধিমালা ১৯৯২ এর ৪০, ৪১ বিধিমোতাবেক চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪৬(১) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। শুধু তাই নয়, ইতোপূর্বে উক্ত মিলন কুমার সরকারকে আরও দু’বার কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, মিলন কুমার সরকার পৌরসভার রাজস্ব তহবিলের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করলে তা সময়মত সমন্বয় না করার ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের দিন পূর্বকোমরনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ শেষে র‌্যাব, পুলিশ প্রশাসনের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পৃথক ২টি মামলায় পৌরসভার দুই কর্মচারি মো. সাইফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলী আসামি হয়। তারা গত ১৫ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পন করলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরদিন ১৬ মার্চ তারা কারাগারে থাকায় ওই দুই কর্মচারীকে চাকুরী বিধি অনুযায়ী তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে।
এব্যাপারে গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মো. মতলুবর রহমান সুত্রে জানা গেছে, ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় তাদেরকে পৌরসভার বিধিমোতাবেক কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পৌরসভাকে অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক আলোকিত পৌরসভা গড়তে ভবিষ্যতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে পৌরসভা কর্মচারী বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪৬(১) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা